শিরোনাম

ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন

আখাউড়ার ৫ ইউনিয়ন পরিষদে নৌকা ছাড়া নির্বাচন, মাঠে আছে যুবলীগ-ছাত্রলীগ

আখাউড়া প্রতিনিধি | বুধবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২১ | পড়া হয়েছে 212 বার

আখাউড়ার ৫ ইউনিয়ন পরিষদে নৌকা ছাড়া নির্বাচন, মাঠে আছে যুবলীগ-ছাত্রলীগ

আগামী ২৬ ডিসেম্বর চতুর্থধাপে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। এই উপজেলার কোন ইউনিয়নেই চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামীলীগ। তাই নির্বাচনে নৌকা প্রতিক নেই।

মানুষের চাহিদার কথা বিবেচনা করে ও অবাধ, সুষ্ঠ ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য এই ৫ ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামীলীগ।

সম্প্রতি উপজেলা আওয়ামী লীগের এক বিশেষ বর্ধিত সভায় ভার্চ্যুয়ালি যোগ দিয়ে এই আসনের সংসদ সদস্য ও আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেন, জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এতে নির্বাচনে ভিন্ন মাত্রা যোগ হয়। সাধারন মানুষ মন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান।

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে এই আশায় নির্বাচনে বেশ কয়েকজন বিএনপি নেতাও চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হন। সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা নিজ গ্রাম, এলাকা, গোষ্ঠীকে প্রাধান্য দিয়ে ভোটের মাঠে নেমেছেন।

তবে মন্ত্রীর ঘোষনাকে পাশ কাটিয়ে দলীয় কর্মসূচির নামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে একাধিক ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছে যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগ।

একজন প্রার্থী তার পোষ্টারে দলীয় শ্লোগান “জয় বাংলা” “জয় বঙ্গবন্ধু” ও আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করেছেন। একাধিক প্রার্থী কৌশলে নিজেকে আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে ভোটারদের কাছে পরিচয় দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনে নৌকা প্রতীক না থাকলেও প্রার্থীদের পক্ষে দলীয় সমর্থন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এদিকে পোস্টারে দলীয় শ্লোগান “জয় বাংলা” “জয় বঙ্গবন্ধু” ও আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করায় ইউনিয়নের উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল হান্নান ভূঁইয়া স্বপনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এদিকে নির্বাচনী সভা করে সমর্থকদের মধ্যে জিলাপি বিতরণের অভিযোগে উত্তর ইউনিয়নে যুবলীগের সমর্থন পাওয়া চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ শাহজাহানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গত সোমবার রাতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কিশোর কুমার দাস এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

এর আগে গত সোমবার সকালে আজমপুরে পুলিশের ‘একই মঞ্চে সব প্রার্থী’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রুমানা আক্তার তাঁর আলোচনায় করো নাম উল্লেখ না করে এক প্রার্থীর বিরুদ্ধে পোস্টারে দলের নাম ব্যবহারের অভিযোগ আনেন।

এদিকে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সব ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সকল ইউনিয়নে সব প্রার্থীকে একমঞ্চে এনে সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে প্রতিশ্রুতি আদায়ের কর্মসূচি শুরু করেছে পুলিশ।স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে থাকায় সাধারন মানুষ সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে বেশ আশাবাদী।

দলীয় নেতা-নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনে নৌকা প্রতীক না থাকলেও নির্বাচনী মাঠে রাজনীতি ছড়িয়ে দেয়ার কাজটা শুরু করে যুবলীগ।

প্রথমে তাঁরা উপজেলা যুবলীগের সদস্য ও দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ জালাল উদ্দিনকে সমর্থন দেন। একইভাবে ছাত্রলীগের কর্মী সমাবেশের নামে উপজেলার উত্তর ইউনিয়নে মোঃ শাহজাহানকে সমর্থন দেয় যুবলীগ। মোগড়া ইউনিয়নের উমেদপুরে বঙ্গবন্ধু পরিষদের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় মোগড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে এম.এ. মতিনকে সমর্থন দেয়া যুবলীগ ও ছাত্রলীগ। উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নে বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়া মোঃ লুৎফুর রহমানকে সমর্থন দিয়েছেন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। তবে ধরখার ইউনিয়নে এখনো সেভাবে কারো পক্ষে মাঠে নামেননি তাঁরা। তবে উপজেলার ধরখার ইউনিয়নে এখানো কোন প্রার্থীকে সমর্থন দেয়নি যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

প্রার্থীদের সমর্থন দেয়া প্রসঙ্গে উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক মোঃ আব্দুল মমিন বাবুল বলেন, দক্ষিণ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সমর্থন দেয়া জালাল উদ্দিন উপজেলা যুবলীগের একজন সক্রিয় সদস্য ও উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে সমর্থন দেয়া মোঃ শাহজাহান দলের একনিষ্ঠ কর্মী। যেহেতু তাঁরা আমাদের সংগঠনের সাথে জড়িত তাই আমরা তাদেরকে সমর্থন দিয়েছি। তিনি আরো বলেন, নির্বাচনে যেহেতু নৌকা প্রতীক নেই, তাই আমার কোনো ভাই যদি ভোটে দাঁড়ায় তাহলে তাঁকে সমর্থন দেওয়া দোষের কিছু হবে না। বিষয়টি সাংঘর্ষিক হবে না বলেও তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

এ ব্যাপারে মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ মনির হোসেন বলেন, নির্বাচনে নৌকা প্রতীক না থাকার পরও কোন প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে যুবলীগ-ছাত্রলীগ বির্তকের সৃষ্টি করেছেন। প্রকৃত যুবলীগ, ছাত্রলীগের কর্মীরা তা করতে পারেন না। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রী মহোদয় তার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক মোঃ জয়নাল আবেদীন বলেন, ভোটে নৌকা প্রতীক না থাকায় দলীয় কাউকে সমর্থন দেওয়াটা আইনমন্ত্রীর দেওয়া সিদ্ধান্তের সাথে সাংঘর্ষিক। তিনি বলেন, কোন প্রার্থীকে সমর্থন দেয়ার জন্য আওয়ামী লীগ থেকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি। প্রার্থীদের সমর্থন দেয়ার বিষয়ে যুবলীগ কিংবা ছাত্রলীগ আমাদের সাথে কোনো ধরনের পরামর্শ করেনি।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১