শিরোনাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপির সমাবেশে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী

বিএনপি নয়, আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীদের লিস্ট করুন

স্টাফ রিপোর্টার | রবিবার, ০৯ জানুয়ারি ২০২২ | পড়া হয়েছে 257 বার

বিএনপি নয়, আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীদের লিস্ট করুন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ জেগে উঠেছে। চোরের ১০ দিন আর গেরস্তের ১দিন। তাদের ১০দিন শেষ হয়ে গেছে। দেশ ও দেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।

তিনি শনিবার ৮ই জানুয়ারি, ২০২২ বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের বটতলী বাজারে এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করায় সদর উপজেলার বটতলী বাজারে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা কচির সভাপতিত্বে ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরো বলেন, চট্টগ্রামে আমি শুনেছি, পুলিশ নাকি বিএনপির নেতা-কর্মীদের লিস্ট করছে। আমি পুলিশকে বলেছি, এতবড় দলের নেতা-কর্মীদের লিস্ট করে লাভ নেই। আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীদের লিস্ট করেন।
আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়ও বলছি, গুটি কয়েক আওয়ামীলীগার, যারা ভোট চুরি ডাকাতি, লুটপাট করে তাদের লিস্ট করেন। তারা ছাড়া বাকী সবাই বিএনপি।

তিনি বলেন, আলোচনা শুরু হয়েছে। যারা ২০০৮ সালে, ২০১৪ সালে ও ২০১৮ সালে ভোট চুরি করেছে সেই চক্র আগামী নির্বাচনে কিভাবে ভোট চুরি করবে সেই আলোচনা করছে। আলোচনার নামে চলছে ভোট চুরির প্রক্রিয়া। এই চোরদের সাথে আছে কিছু ছোট খাটো চেঁছড়া চোর, যারা পরগাছা, যারা নিজেরা চুরি করতে পারেনা, চোরদের উচ্ছিট খায় সেই ধরনের চেঁছড়া চোর। আমি তাদের নাম নিতে চাইনা।

বাংলাদেশের মানুষ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষন করছে এই চোরদের। তারা বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার বঞ্চিত করার ষড়যন্ত্র করছে। এই চোরদের ধরতে হবে। তাদেরকে সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে। এই চোরদের জনগনের সামনে তুলে ধরতে হবে। ইতিমধ্যেই তাদের বুকে ধরফর শুরু হয়েছে।

আপনারা জনগনের পাশে দাড়ান, প্রতিটি গ্রামে, প্রতিটি ইউনিয়নে, প্রতিটি ইউনিটে দেশের জনগন প্রস্তুতি নিচ্ছে। আন্দোলন সফল করে আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দেশ থেকে নিষেধাজ্ঞা আসছে। আগামীদিনে আমাদেরকে আরো এগিয়ে যেতে হবে। তারা দেশ থেকে পালিয়েও রক্ষা পাবেন না, যা বিদেশে পাঠিয়েছেন তা বাজেয়াপ্ত করা হবে।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, সময় এসে গেছে, অত্যাচারী,অবৈধ সরকারের নির্দেশে দেশের মানুষের বিরুদ্ধে কোন সিদ্ধান্ত নিবেন না। জনগনের সুরক্ষার দায়িত্ব পালন করবেন। কাউকে সরকারে রাখার জন্য আপনারা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী হন নাই। বাংলাদেশের জনগনের স্বার্থ সুরক্ষায় কাজ করার কথা চিন্তা করুন।

তিনি বলেন, একটি ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাপক তান্ডব চালানো হয়েছে। সেসব মামলায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের আসামী করা হয়েছে। এখনো সময় আছে দেশের পক্ষে দাড়ান।

সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক এমপি আবুল খায়ের ভূইয়া। বক্তব্য রাখেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ একে একরামুজ্জামান, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শাহজাহান, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

উপস্থিত ছিলেন উকিল আবদুস সাত্তার ভূঞা এমপিসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় হাজার হাজার নেতা-কর্মী যোগ দেন।

এর আগে ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আসার পথে আশুগঞ্জের টোলপ্লাজায় ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার গাড়ি আটকে দেয় পুলিশ। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন বলেন, রুমিন ফারহানার গাড়ি আটক করা হয়নি। তার সাথে আমরা কথা বলছি।

এদিকে ১৪৪ ধারা জারি উপলক্ষে শনিবার ভোর থেকেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৪০টি পয়েন্টে ৫০০ পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পৌর এলাকার ফুলবাড়িয়া কনভেনশন সেন্টারের সামনে একই সময়ে বিএনপি মহাসমাবেশ ও ছাত্রলীগ ছাত্র সমাবেশ আহবান করায় শনিবার সকাল ছয়টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সমগ্র পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১