শিরোনাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ১০ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন

বিদ্রোহীদের ছড়াছড়িতে অস্বস্তিতে আওয়ামীলীগের প্রার্থীরা ॥ ১৫ বিদ্রোহী বহিষ্কার

স্টাফ রিপোর্টার | বুধবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২১ | পড়া হয়েছে 163 বার

বিদ্রোহীদের ছড়াছড়িতে অস্বস্তিতে আওয়ামীলীগের প্রার্থীরা ॥ ১৫ বিদ্রোহী বহিষ্কার

আগামী ৫ জানুয়ারি পঞ্চমধাপে অনুষ্ঠিত হবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ১০ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। প্রতীক বরাদ্দের পর জোরোশোরে প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা। তবে প্রতিটি ইউনিয়নেই আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় অস্বস্তিতে আছেন আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থীরা।

এদিকে দল থেকে মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেয়ায় ১৫জন বিদ্রোহীকে বহিষ্কার করেছে জেলা আওয়ামীলীগ। গত মঙ্গলবার ২১শে ডিসেম্বর, ২০২১ সন্ধ্যায় তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আল-মামুন সরকার।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৬১জন প্রার্থী। এর মধ্যে রয়েছে আওয়ামীলীগের ২৫জন বিদ্রোহী। এছাড়াও বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে বিএনপি সমর্থিতরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে আওয়ামীলীগ নেতাদের দাবি দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা ২৫ নয়। বিদ্রোহীর সংখ্যা ১৫জন। তাদেরকে মঙ্গলবার দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এদিকে বিপুল সংখ্যক বিদ্রোহী থাকায় নির্বাচনী মাঠে অস্বস্তিতে পড়ছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা। অনেক ইউনিয়নে বিদ্রোহীরা প্রচার-প্রচারনায় এগিয়ে রয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ১০ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬১জন প্রার্থী। এর মধ্যে মজলিশপুর ইউনিয়নে ৫জন, বুধল ইউনিয়নে ৮জন, সুহিলপুর ইউনিয়নে ৬ জন, নাটাই উত্তর ইউনিয়নে ৯জন, তালশহর পূর্ব ইউনিয়নে ৮জন, বাসুদেব ইউনিয়নে ৬জন, সাদেকপুর ইউনিয়নে ৬জন, রামরাইল ইউনিয়নে ৪ জন, মাছিহাতা ইউনিয়নে ৩জন ও সুলতানপুর ইউনিয়নে ৬ জন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

মজলিশপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন আওয়ামীলীগ মনোনীত মোঃ তাজুল ইসলাম (নৌকা), আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী মোঃ শরিফুল ইসলাম-(চশমা), আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী আশরাফুল ইসলাম-(আনারস), বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র মোঃ নাছির- (মোটর সাইকেল) ও স্বতন্ত্র মোঃ মিজানুর রহমান (ঘোড়া)।

বুধল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন আওয়ামীলীগ মনোনীত মোঃ আবদুল হক (নৌকা), আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী মোঃ আবদুল হামিদ (আনারস), আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী মনিরুজ্জামান-(চশমা), স্বতন্ত্র মোঃ মিজান মিয়া (টেলিফোন), ইসলামী ঐক্যজোটের আতিকুর রহমান-(মোটর সাইকেল), বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র আবদুল্লাহ আল রাকিব-(ঘোড়া), ইসলামী আন্দোলনের হুমায়ূন কবির (হাতপাখা) ও স্বতন্ত্র মোঃ ইলিয়াছ (অটোরিকসা)।

সুহিলপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন আওয়ামীলীগ মনোনীত আবদুর রশীদ ভূইয়া-(নৌকা), আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী মোঃ শফিকুল ইসলাম-(চশমা), বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র কামরুজ্জামান খান (ঘোড়া), বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র মোঃ আলাউদ্দিন-(আনারস), বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র মোঃ আবদুল মতিন মুন্সী-( মোটর সাইকেল) ও ইসলামী আন্দোলনের মোঃ মোস্তাক (হাতপাখা)।

নাটাই উত্তর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন আওয়ামীলীগ মনোনীত মোঃ হাবিবুল্লাহ বাহার -(নৌকা), আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী মোঃ হালিম শাহ লিল মিয়া-(আনারস), আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী মোঃ মোবারক হোসেন-(টেলিফোন), আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী আবু সাঈদ-(চশমা), আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী হামদু মিয়া (রজনী গন্ধা), আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী আমির হোসেন-(মোটর সাইকেল), জাতীয় পার্টির রাশেদ মিয়া (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র কেফায়েত- (ঘোড়া) ও ইসলামী আন্দোলনের মোঃ রজব আলী (হাতপাখা)।

তালশহর পূর্ব ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ মনোনীত আবদুস সালাম-(নৌকা), আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী এনামুল হক-(মোটর সাইকেল), আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী সাইফুল্লাহ-(অটোরিকসা), আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী আল-আমিন-(টেলিফোন), আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী জায়েদুল কবির-(ঘোড়া), বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র ফয়জুর রহমান-(আনারস),স্বতন্ত্র মনিরুল ইসলাম-(চশমা) ও ইসলামী আন্দোলনের পাভেল (হাতপাখা)।

বাসুদেব ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ মনোনীত এম. আলম ভূইয়া-(নৌকা), আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী নেছার উদ্দিন শেরশাহ-(ঘোড়া), আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী আবদুল হাকিম মোল্লা-(আনারস), আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী নিজাম উদ্দিন ভূইয়া-(চশমা), আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী আয়নাল হক (টেলিফোন), ও ইসলামী আন্দোলনের জাফর আহমেদ-(হাতপাখা)।

সাদেকপুর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ মনোনীত নাছির উদ্দিন-(নৌকা), আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী মুজিবুর রহমান-(মোটর সাইকেল), আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী সাইদুজ্জামান-( আনারস), বিএনপি সমর্থিত জহিরুল ইসলাম-( টেলিফোন), বিএনপি সমর্থিত হারুন অর রশিদ-(চশমা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবুর রহমান-(ঘোড়া)।

রামরাইল ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ মনোনীত শাহাদাত খান-(নৌকা), আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী মশিউর রহমান সেলিম- (আনারস) আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী শাহীন ভূইয়া বাবু- (ঘোড়া) ও জাতীয় পার্টির আবুল কালাম (লাঙ্গল)।

মাছিহাতা ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ মনোনীত আলামিনুল হক-(নৌকা), আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী মোশারফ হোসেন মুন্সী- (আনারস), ইসলামী আন্দোলনের মাসুম-(হাতপাখা)।

সুলতানপুর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ মনোনীত ওমর ফারুক-(নৌকা), আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী শেখ মোহাম্মদ মহসিন- (আনারস), আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী সুধীর চন্দ্র ঘোষ-(ঘোড়া), জাতীয় পার্টির হোসেন মিয়া-(লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলনের আক্কাস মিয়া-(হাতপাখা) ও স্বতন্ত্র গাজী শাহীন-(চশমা)।

এদিকে দল থেকে বার বার অনুরোধ করা সত্ত্বেও প্রার্থীতা প্রত্যাহার না করায় ১৫ বিদ্রোহীকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে আওয়ামী লীগ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাদেরকে বহিষ্কার করা হয়।

বহিষ্কৃতরা হলেন, মজলিশপুর ইউনিয়নে মোঃ শরিফুল ইসলাম, বুধল ইউনিয়নে মোঃ আবদুল হামিদ ও মনিরুজ্জামান, নাটাই উত্তর ইউনিয়নে মোঃ হালিম শাহ লিল মিয়া, কাজী মোঃ মোবারক হোসেন ও আমির হোসেন, তালশহর পূর্ব ইউনিয়নে এনামুল হক ওসমান ও আল-আমিন, বাসুদেব ইউনিয়নে নেছার উদ্দিন শেরশাহ ও আবদুল হাকিম মোল্লা, সাদেকপুর ইউনিয়নে সাইদুজ্জামান মাষ্টার, রামরাইল ইউনিয়নে মশিউর রহমান সেলিম ও শাহীন ভূইয়া বাবু, সুলতানপুর ইউনিয়নে শেখ মোহাম্মদ মহসিন ও সুধীর চন্দ্র ঘোষ।

জেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আওয়ামীলীগের মনোনয়নবঞ্চিত দলীয় বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীদেরকে ১৯ ডিসেম্বরের মধ্যে নিজ নিজ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করার জন্য সদর উপজেলা আওয়ামীলীগ ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ বার বার অনুরোধ করা সত্ত্বেও বিদ্রোহীরা তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যহার করেন নি। তাই সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সুপারিশে মঙ্গলবার জেলা আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী প্রার্থীদেরকে তাদের সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করে এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রের ৪৭ ধারার (১১) উপধারা মোতাবেক বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার গুরুতর শৃংখলা ভঙ্গের অভিযোগে দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটিতে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, বিদ্রোহী থাকায় কিছু কিছু জায়গায় আমাদের অস্বস্তি আছে। তাদেরকে মঙ্গলবার দল থেকে দ্রুত বহিষ্কার করা হয়েছে। বিদ্রোহীদেরকে দল থেকে বহিষ্কার করায় যতটুকু অস্বস্তি আছে তা কেটে যাবে। দলীয় নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবেই দল মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন। তিনি বলেন, ২৫জন বিদ্রোহী কথাটা সঠিক নয়, দলের পদধারী ১৫জন বিদ্রোহী আছে।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১